শ্যামাপ্রসাদের নামকরণের পিছনে কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত?
শ্যামাপ্রসাদের নামকরণের পিছনে কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আছে কিনা তা নিয়ে ইতিমধ্যে জল্পনা শুরু হয়৷ বাংলার রূপকার বিধানচন্দ্র অসাধারণ চিকিৎসক হিসেবেও সর্বজনবিদিত৷ তাঁর রোগীর তালিকায় দেশি-বিদেশি বহু নামকরা ব্যক্তি ছিলেন৷ এহেন বিধান রায়ের নাম পরিবর্তন করে জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদের নামকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷
হাসপাতালের নাম বদল
যদিও আইআইটি কর্তৃপক্ষের সাফাই, বিসি রায়ের নামে একটি হাসপাতাল থাকার জন্যই এই নামবদল৷ এই বদল বোর্ডে সর্বসম্মতিতেই হয়েছে৷ তবে বিধানরায়ের সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর৷ কেন্দ্রীয় শিল্পমন্ত্রী হিসাবে শ্যামাপ্রসাদকে অনেক আবদার করতেন বিধান রায়৷ শ্যামাপ্রসাদের আকস্মিক মৃত্যুর পর খুব দুঃখ পেয়েছিলেন বিধান রায়৷ যদিও এদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিক্ষোভের মুখে আপাতত স্থগিত রাখা হয় এই হাসপাতালের উদ্বোধন।
কনভোকেশনে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী
এই হাসপাতালের উদ্বোধন না করলেও এদিন আইআইটির ৬৬তম কনভোকেশনে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী৷ বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা হাসপাতালটি ৭৫০ শয্যা বিশিষ্ট। এই হাসপাতাল ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রকের আর্থিক সাহায্যে গড়ে উঠেছে৷ আজকের অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। তবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে যে বাংলায় একটি ব্র্যান্ড হিসেবে ব্যবহার করে বিজেপি এগোতে চাইছে, তা এই ঘটনা থেকে প্রায় স্পষ্ট বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
প্রধানমন্ত্রী দফতরের আশা
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর দফতর তরফে আশা ব্যক্ত করা হয়েছিল, আইআইটি খড়্গপুরের সাহায্যে এই নবনির্মিত প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করে উচ্চ মানের বায়োমেডিক্যাল, ক্লিনিকাল এবং অনুবাদমূলক গবেষণা, দূরবর্তী ডায়াগনস্টিকস, টেলিমেডিসিন, টেলিরেডিওলজি এবং ড্রাগের নকশা ও বিতরণ সম্পর্কিত গবেষণা হবে৷ স্নাতকোত্তর এবং ডক্টরাল প্রোগ্রামের পাশাপাশি এমবিবিএস প্রোগ্রামটিও ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর দফতর আশা করা হয়েছে।